সমস্যা মূলত জার্সি নিয়ে। আর্জেন্টিনা ফিফার কাছে অনুরোধ করেছিল—ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তারা যেন গাঢ় নীল জার্সিটি পরতে পারে। বিশ্বকাপের ওই ম্যাচটিতে আকাশি-নীল জার্সি পরে খেলতে হতো লিওনেল মেসিদের।
ফিফার কাছে অনুরোধ করা হলে তারা ফেরায়নি আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ সেই অনুরোধ মঞ্জুর করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে ইংল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। এখন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল মুখোমুখি ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। বিজয়ী দল রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে।
এই ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা লড়াই মানেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে বহু স্মরণীয় মুহূর্ত। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের পর ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আবার ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মারায় লাল কার্ড দেখেছিলেন ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম।
মজার বিষয় হলো- ওই দুই ম্যাচেই আর্জেন্টিনা গাঢ় নীল বা নেভি রঙের জার্সি পরেছিল। বিপরীতে ১৯৬৬ ও ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সি পরে খেলেছিল তারা। কাকতালীয় বিষয় হচ্ছে দুবারই হেরে যায় তারা।
এই ইতিহাসকে শুভ লক্ষণ হিসেবে ধরে সেমিফাইনালেও নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরার অনুমতি চেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফিফা সেই অনুরোধ অনুমোদন করেছে। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা নীল জার্সিতেই মাঠে নামবে।
এ নিয়ে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল খানিকটা মজাই করেছেন, ‘ওয়ার্ম-আপের আগে পর্যন্ত আমি জানতামই না আমরা কোন জার্সি পরব। আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরবে, আর আমরা সাদা—এটা কি তাদের সৌভাগ্যের জার্সি বলে?’
পরে ইংলিশদের কোচকে জানানো হয়, ইংল্যান্ড স্বাগতিক দল হিসেবে সাদা জার্সি পরবে। তখন টুখেল বলেন, ‘যদি কোনো কুসংস্কার বা বিশ্বাস থেকে তারা এটা করে থাকে, তাহলে তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। আমিও হলে হয়তো একই কাজ করতাম।’
তবে পয়া জার্সি তো আর্জেন্টিনা পেল, এবার কি ম্যাচের রেজাল্টও তাদের পক্ষে আসবে? নীল জার্সি কতটা কাজে আসল, জানা যাবে আজ রাতের খেলা শেষে।


